1. gopalganjkantho@gmail.com : Salim Reza : Salim Reza
  2. jmitsolution24@gmail.com : support :
সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০১:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
গোপালগঞ্জের ৩টি সংসদীয় আসনের নির্বাচিত এমপিদের আন্তরিক সংবর্ধণা দিলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নিষিদ্ধ গাইড বই বিক্রির অভিযোগ করায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের মানববন্ধন গোপালগঞ্জে ভোটকেন্দ্রে ককটেল হামলা, আনসার সহ আহত ৩ গোপালগঞ্জে ২৩ কেজি গাঁজাসহ দুই সহোদরকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৬। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবির প্রস্তুতি ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, জনমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ১১ দলীয় জোট: মাওলানা মামুনুল হক টুঙ্গিপাড়ায় বিএনপির নির্বাচনী গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত মামলা-হামলা ও চাঁদাবাজিমুক্ত টুঙ্গীপাড়া–কোটালীপাড়ার গড়ার অঙ্গীকার” — আবুল বশার দাড়িয়া (বাসু) গোপালগঞ্জে জাকের পার্টির নির্বাচনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত  গোপালগঞ্জ-২ আসনে লুটুলের গণজোয়ার: নির্বাচনী মাঠে চমক দেখাচ্ছেন সাবেক এই উপজেলা চেয়ারম্যান

নিষিদ্ধ গাইড বই বিক্রির অভিযোগ করায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের মানববন্ধন

  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২০ জন সংবাদটি পড়েছেন।
  1. নিষিদ্ধ গাইড বই বিক্রির অভিযোগ করায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের মানববন্ধ: প্রতিবাদে সরব কোটালীপাড়া সাংবাদিক ফোরামকোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি:কোটালীপাড়া উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের চাপে নিষিদ্ধ গাইড বই কিনতে বাধ্য করার অভিযোগ তোলায় কোটালীপাড়া সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি ও শিক্ষার্থী অভিভাবক নেতা মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েলের বিরুদ্ধে কতিপয় শিক্ষকের মানববন্ধনের প্রতিবাদে প্রতিবাদ সভা করেছে কোটালীপাড়া সাংবাদিক ফোরাম।
  1. মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কোটালীপাড়া সাংবাদিক ফোরাম কার্যালয়ে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সহ-সভাপতি কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক কালাম তালুকদার, গোলাম মর্তুজা, এফ এম মিরাজুল ইসলাম, মাসুদুর রহমান, সোহেল হাওলাদার ও কামাল হাওলাদার।
    সভায় বক্তারা বলেন, সরকার যেখানে প্রাথমিক পর্যায়ে গাইড বই নিষিদ্ধ করেছে, সেখানে ৬৮ নং তারাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গাইড বই কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে শ্রেণিকক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের গাইড বই কিনতে উদ্বুদ্ধ করেছেন—এমন অভিযোগ উঠে এসেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে এনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করায় সাংবাদিক মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েলের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশ। যা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অনাকাঙ্ক্ষিত।
    সাংবাদিকরা আরও বলেন, একজন প্রতিথযশা সাংবাদিক ও অভিভাবক নেতা হিসেবে অনিয়মের প্রতিবাদ করা তার নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু সেটিকে ভিন্নখাতে নিতে একটি অনৈতিক বিষয় আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। তারা প্রশ্ন তোলেন—সরকারি সুযোগ সুবিধা নিয়ে চাকরিরত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা কিভাবে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ গাইড বই বিক্রির প্রচারনা চালান এবং এই বিষয়ে অভিযোগ তোলায় অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি না জানিয়ে বরং অভিযোগকারী সাংবাদিকের বিরুদ্ধেই মানববন্ধন করেন? এ যেন শাক দিয়ে মাছ ঢাকার অপচেষ্টা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তারা।
    জানা গেছে, কোটালীপাড়ার ৬৮ নং তারাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক সমিতির সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার কোটালীপাড়া প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল রোববার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে নিষিদ্ধ গাইড বই কোম্পানির প্রতিনিধিকে নিয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের গাইড বই কিনতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। বিষয়টি মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
  1. পরদিন সোমবার সকালে তিনি একই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, লেকচার প্রকাশনীর এক প্রতিনিধিকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের গাইড বই কেনার জন্য প্ররোচিত করেন এবং পরবর্তীতে চাপ প্রয়োগ করেন। এতে অভিভাবকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
  1. অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৬৮ নং তারাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অশোক কুমার অধিকারী ও সহকারী শিক্ষক রসময় রত্নের নেতৃত্বে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে মানববন্ধন করেন। সেখানে তারা অভিযোগ করেন, সাংবাদিক মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল শিক্ষকদের হয়রানি ও আতঙ্কিত করছেন। তবে কিভাবে হয়রানি করা হয়েছে, সে বিষয়ে তারা স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে দাবি করেন সাংবাদিক নেতারা।
    এ বিষয়ে সাংবাদিক মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল বলেন, “আমি বিদ্যালয়ের অভিভাবক-শিক্ষক এসোসিয়েশনের (পিটিএ) সভাপতি হিসেবে অভিভাবকদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি প্রকাশ করেছি। শিক্ষকতা একটি মহান পেশা। যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, তা তদন্ত হওয়া উচিত। অনিয়মের প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে, যার তীব্র নিন্দা জানাই।”
    তিনি আরও জানান, বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
    অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অশোক কুমার অধিকারীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
    উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাইড বই ক্রয়ে শিক্ষার্থীদের প্ররোচনার একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
    শিক্ষকদের মানববন্ধনের বিষয়ে তিনি জানান, এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ তার দপ্তরে জমা পড়েনি।
    এদিকে শিক্ষকদের মানববন্ধনের সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান।
    শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাথমিক স্তরে গাইডনির্ভর শিক্ষা শিশুদের সৃজনশীলতা ব্যাহত করে এবং এটি সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী। তাই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2022-2025
Developed By GOPALGANJ SOMOY