কোটালীপাড়া প্রতিনিধি :
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারিদের বিভিন্ন সমস্যা, অধিকার ও ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আলোচনা সভা ও গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার ১৪৭ নম্বর দক্ষিণ মাচারতারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে বাংলাদেশ প্রান্তিক পোল্ট্রিশিল্প রক্ষা অ্যাসোসিয়েশন গোপালগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আয়নাল মীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশ প্রান্তিক পোল্ট্রিশিল্প রক্ষা অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম মল্লিক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য খলিলুর রহমান, পলাশ মণ্ডল, মো. আশ্রাফুল ইসলাম, ইউসুফ আলী, আরিফুল ইসলাম, কান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নুরুল ইসলাম হাওলাদার, পোল্ট্রি ব্যবসায়ী মিরাজ শেখ, মন্টু হাওলাদার, রুহিদাস ও শফিউল্লাহ বেপারীসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
সভাটি সঞ্চালনা করেন আশ্রাফুল ইসলাম রাসেল। এতে কোটালীপাড়া উপজেলার শতাধিক প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারি অংশ নেন।
সভায় প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারিদের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, মুরগির বাচ্চা, খাদ্য ও ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় খামারিদের ন্যায্য মূল্য না পাওয়াসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ প্রান্তিক পোল্ট্রিশিল্প রক্ষা অ্যাসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম মল্লিক প্রান্তিক খামারিদের গণতান্ত্রিক অধিকার, ন্যায্য মূল্য ও ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের বিপুলসংখ্যক প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারি নিজেদের পুঁজি বিনিয়োগ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করলেও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজারমূল্যের অস্থিরতার কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে লোকসানের মুখে রয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে খামারিদের টিকিয়ে রাখতে কার্যকর সরকারি উদ্যোগ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রয়োজন।
আলোচনায় আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকার শাহবাগ চত্বরে দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রান্তিক খামারিদের অংশগ্রহণে কর্মসূচি পালনের বিষয়েও আলোচনা করা হয়। সংগঠনের নেতারা দাবি বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয়ভাবে পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণের কথা জানান।
এ সময় গোপালগঞ্জ জেলার খামারিদের নিজ নিজ এলাকায় সংগঠিত হয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়। খামারিদের উৎপাদিত ডিম ও মুরগির ন্যায্য বাজারমূল্য নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
Leave a Reply