গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি গ্রাম থেকে বিএম মাহমুদুল ইসলাম নোবেল নামে পুলিশের এক সাব-ইন্সপেক্টরের (এসআই) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে শ্বশুরবাড়ির সংলগ্ন একটি পুকুরপাড় থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের পরিবারের দাবি, পরকীয়ার জেরে পরিকল্পিতভাবে মাহমুদুলকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী ও শ্বশুরকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
নিহত মাহমুদুল ইসলাম খাগড়াছড়ির মহালছড়ি এপিবিএন-এ কর্মরত ছিলেন। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বিজয়পাশা গ্রামের মৃত হায়দার ভূঁইয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) সরকারি কাজে গোপালগঞ্জে আসেন মাহমুদুল। কাজ শেষে তিনি নিজের গ্রামে না গিয়ে পাইককান্দি পূর্বপাড়া গ্রামে শ্বশুর ঝুনু শেখের বাড়িতে ওঠেন।
সোমবার সকালে স্থানীয় কয়েকজন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে মাহমুদুল ইসলামের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। খবর পেয়ে নিহতের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন মরদেহটি উদ্ধার করে রাস্তার পাশে একটি ভ্যানের ওপর রাখেন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহতের স্বজনদের দাবি, ১১ বছর আগে বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীর মানসিক চাপ ও পারিবারিক জটিলতার কারণে মাহমুদুল ছুটিতে এসে নিজ বাড়িতে না গিয়ে শ্বশুরবাড়িতে থাকতে বাধ্য হতেন।
নিহতের ভাই আশিকুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাবি কখনো ভাইকে আমাদের বাড়ি যেতে দিতেন না। তিনি পরকীয়ায় লিপ্ত ছিলেন। আমার ধারণা, পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় আমার ভাইকে হত্যা করে পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।
তবে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ অস্বীকার করে নিহতের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা বলেন, “আমার স্বামী নিয়মিত ভোরে উঠে ফজরের নামাজ পড়তেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে তাকে বিছানায় না দেখে খোঁজাখুঁজি করি। পরে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুকুরের ঘাটলা থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করি।
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ (সদর সার্কেল) মো. সাখাওয়াত হোসেন সেন্টু জানান, খবর পেয়ে আমরা এপিবিএন-এর এসআই মাহমুদুলের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা ও শ্বশুর ঝুনু শেখকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply