জসিম মুন্সী:
গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য বিলকিস বেগমের বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রান্তিক ও অসহায় মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া, ভাতা কার্ড বিতরণে অনিয়ম এবং সরকারি উন্নয়নকাজের উপকরণ ব্যবহারে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শিশু কার্ড, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, গর্ভবতী ভাতা ও পানির ট্যাংকি দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কাছে একাধিক অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, শিশু কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে গজালিয়া গ্রামের নার্গিস বেগমের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা, জাহানারা বেগমের কাছ থেকে ১০ হাজার, নেহার বেগমের কাছ থেকে ১০ হাজার, শুকুর শরিফের কাছ থেকে ১০ হাজার এবং নূরজাহান বেগমের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সিঙ্গিপাড়া গ্রামের কুব্বুত আলীর কাছ থেকে সমিতির নামে ৬৭০ টাকা নেওয়াসহ কয়েকজনের কাছ থেকে মোট প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এদিকে বিলকিস বেগমের নিজের মেয়ের নামে শিশু কার্ড করার অভিযোগও ওঠে। বিষয়টি সাংবাদিক জসিম মুন্সীর মাধ্যমে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার নজরে এলে তদন্তের পর সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীর নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। গর্ভবতী ভাতা নিয়েও রয়েছে অনিয়মের অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের বাদ দিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে ভাতা কার্ড দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ভাতা কার্ডের তালিকা ও সুবিধাভোগীদের তথ্য তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এছাড়া সরকারি ইটের রাস্তার কাজেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি বরাদ্দের ইট দিয়ে আনুমানিক ১৫ মিটার রাস্তা নির্মাণের পর অবশিষ্ট ইট ব্যক্তিগত ভবন নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে অভিযোগটির সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিলকিস বেগমের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকায় সরকারি সুবিধা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সরকারি সুবিধাভোগীদের তালিকা যাচাই, উন্নয়নকাজে ব্যবহৃত অর্থ ও উপকরণের হিসাব পর্যালোচনা এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত বিলকিস বেগমের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে তার বক্তব্য এ প্রতিবেদনে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
সাংবাদিক জসিম মুন্সী বলেন, সরকারি ভাতা ও উন্নয়ন সুবিধা কোনো ব্যক্তি বা জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
তবে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণের জন্য প্রশাসনিক তদন্ত ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন।
Leave a Reply