1. gopalganjkantho@gmail.com : Salim Reza : Salim Reza
  2. jmitsolution24@gmail.com : support :
সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
গোপালগঞ্জের ৩টি সংসদীয় আসনের নির্বাচিত এমপিদের আন্তরিক সংবর্ধণা দিলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নিষিদ্ধ গাইড বই বিক্রির অভিযোগ করায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের মানববন্ধন গোপালগঞ্জে ভোটকেন্দ্রে ককটেল হামলা, আনসার সহ আহত ৩ গোপালগঞ্জে ২৩ কেজি গাঁজাসহ দুই সহোদরকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৬। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবির প্রস্তুতি ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, জনমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ১১ দলীয় জোট: মাওলানা মামুনুল হক টুঙ্গিপাড়ায় বিএনপির নির্বাচনী গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত মামলা-হামলা ও চাঁদাবাজিমুক্ত টুঙ্গীপাড়া–কোটালীপাড়ার গড়ার অঙ্গীকার” — আবুল বশার দাড়িয়া (বাসু) গোপালগঞ্জে জাকের পার্টির নির্বাচনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত  গোপালগঞ্জ-২ আসনে লুটুলের গণজোয়ার: নির্বাচনী মাঠে চমক দেখাচ্ছেন সাবেক এই উপজেলা চেয়ারম্যান

নানা জল্পনা-কল্পনা শেষে হাইকোর্টের রায়ে নির্বাচনী প্রতীক পেলেন জেলবন্দি গণঅধিকার প্রার্থী কাবির মিয়া

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৭ জন সংবাদটি পড়েছেন।

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসনে নানা জল্পনা-কল্পনা শেষে হাইকোর্টের রায়ে তার বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্র ফিরে পেয়েছেন গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী, জেলবন্দি কাবির মিয়া। আদালতের আদেশের পর বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে গোপালগঞ্জের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেন।
গতকাল নির্ধারিত দিনে রিটার্নিং অফিসার ২৭ জন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেন। হাইকোর্টের রায় কার্যকর হওয়ায় আজ কাবির মিয়াকে প্রতীক দেওয়া হলে জেলায় মোট ২৮ জন প্রার্থী নির্বাচনী প্রতীক পেলেন। কাবির মিয়ার প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জ-১ আসনের নির্বাচনী মাঠে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এর আগে ঋণখেলাপির অভিযোগে রিটার্নিং কর্মকর্তা কাবির মিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা হলেও সেখানেও তার মনোনয়ন বাতিল বহাল থাকে। এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কাবির মিয়ার পক্ষে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে মঙ্গলবার হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ের আলোকে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় দ্রুত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে বৃহস্পতিবার তাকে প্রতীক বরাদ্দ দেয়।
গোপালগঞ্জ জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হাইকোর্টের লিখিত আদেশ পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী কাবির মিয়ার মনোনয়ন বহাল রাখা হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এতে করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে গোপালগঞ্জ-১ আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেন।
কাবির মিয়ার আইনজীবীদের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় তাকে হয়রানি করা হয়েছে এবং পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরিয়ে দিতেই মনোনয়ন বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
মনোনয়ন ফিরে পাওয়া ও প্রতীক বরাদ্দের খবরে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ও উৎসাহ দেখা গেছে। দলটির জেলা শাখার সাবেক সভাপতি আলামিন সরদার একে “আইনের শাসনের বিজয়” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আদালতের রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে অন্যায়ভাবে কাউকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া যায় না।
অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের শিবিরে এ নিয়ে চলছে আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কাবির মিয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণ গোপালগঞ্জ-১ আসনের ভোটের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার মধ্য দিয়ে কাবির মিয়া এখন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারে নামতে পারবেন। যদিও তিনি বর্তমানে কারাবন্দি, তবুও তার পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীরা মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
গণঅধিকার পরিষদের জেলা কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাআদ শিকদার বলেন, কাবির মিয়া মুকসুদপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে এলাকায় তার একটি সুসংগঠিত ভোটভিত্তি রয়েছে। রাজনৈতিক জীবনের নানা উত্থান-পতনের মধ্যেও তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। ফলে তার প্রার্থিতা পুনর্বহাল হওয়ায় স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, কাবির মিয়া বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে এলাকায় একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে তিনি বরইতলা–মুকসুদপুর–কাশিয়ানী আঞ্চলিক বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব পরিচয়ের কারণে তার রাজনৈতিক প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে দৃশ্যমান।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাবির মিয়া গোপালগঞ্জ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খানের বিরুদ্ধে লড়ে প্রায় লক্ষাধিক ভোট পেয়ে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। ওই ফলাফলকে তার জনপ্রিয়তার একটি বড় প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কাবির মিয়ার মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় গোপালগঞ্জ-১ আসনের ভোটের লড়াই আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কারাবন্দি অবস্থায় তার প্রার্থিতা বহাল থাকা নির্বাচনী রাজনীতিতে এক ভিন্ন ও নজরকাড়া মাত্রা যোগ করেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2022-2025
Developed By GOPALGANJ SOMOY