সফিক শিমুল:
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পাটগাতী লঞ্চঘাটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ টুঙ্গিপাড়া থানা শাখার উদ্যোগে মুক্তির মূলমন্ত্র ইসলামী শাসনতন্ত্র শ্লোগানকে সামনে রেখে ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ (৩১ আগস্ট) রবিবার সকাল ১০টায় এ সম্মেলন শুরু হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শেখ মোঃ মারুফ। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সেক্রেটারি মোঃ ইব্রাহিম শেখ (ডিপ্লোমা)।
বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব ক্বারী তাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ টুঙ্গিপাড়া থানা শাখার সভাপতি মোঃ মুজিবুর রহমান শেখ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশ ও সমাজকে শান্তি ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পতন রোধে ইসলামভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা জরুরি।
অনুষ্ঠানে ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থক অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথি ইঞ্জিনিয়ার শেখ মোঃ মারুফ বলেন, “শামসুল হক ফরিদপুরী রহ. এর পূর্ণ ভুমি টুঙ্গিপাড়ার মানুষের মধ্যে মানুষকে সহযোগিতা এবং খেদমত করার মানসিকতা রয়েছে। মানুষের খাদেম হতে সদর সাহেব হুজুর আমাদের শিখিয়ে গিয়েছেন। তাই আমরা সমাজের মানুষের সেবা করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। মানুষের সুখে দুঃখে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মানুষের পাশে ছিল, আছে, থাকবে। যারা জুলুম, নির্যাতন, মিথ্যা মামলার শিকার হবে আমরা তাদের পাশে থাকবো। টুঙ্গিপাড়ার মানুষ প্রশাসনের কাছে অন্যায়ভাবে হয়রানি শিকার হবে এটা আমরা হতে দেব না। মিথ্যা ও প্রতিহিংসামূলক রাজনৈতিক গায়েবী মামলা টুঙ্গিপাড়া থানায় হবে না।
আমরা মানুষের মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছি। মিথ্যা ও গায়েবী মামলার কারণে প্রশাসন সাধারণ মানুষকে হয়রানি করবে, মানবিক মর্যাদা হানি করবে আমরা তা হতে দেব না।
প্রশাসনের কাছে আমার উদাত্ত আহ্বান প্রকৃত দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ ও রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টিকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। তবে সাধারণ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখবেন।
ইসলাম, দেশ ও মানবতার স্বার্থে যে সকল রাজনৈতিক দল কাজ করবে পীর সাহেব চরমোনাই তাদের নিয়ে একসাথে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। আমরা এদেশে আর রাজনৈতিক সহিংসতা চাই না, প্রতিহিংসার রাজনীতি দেখতে চাই না। আমরা চাই উদারতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে।
আমরা “পিআর” পদ্ধতিতে নির্বাচন চাই, যাতে সকল ভোটারের ভোটের মূল্যায়ন হয় এবং নির্বাচনে কোন সহিংসতার সৃষ্টি না হয়।
তাই সকলের কাছে উদাত্ত আহ্ববান—আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামের পক্ষে, মানবতার পক্ষে, শান্তির প্রতীক ‘হাত পাখায়’ ভোটদানে গণজোয়ার সৃষ্টি করতে হবে।
Leave a Reply