গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গোপালগঞ্জ ০১ আসনে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। আওয়ামীলীগের দূর্গ হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জ -০১ (মুকসুদপুর – আংশিক কাশিয়ানী) সংসদীয় আসনটি। দেশ স্বাধীনের পরে এই আসনটি সব সময়ই আওয়ামীলীগ তাদের নিয়ন্ত্রনে ছিল। দলটির দূর্গ হিসেবে পরিচিত এই জেলার মাটি। তাদের দাপটের কারনে এখানে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সহ অন্য কোন দল নির্বাচনে জয় লাভ করতে পারেনি। এর পর আর রাজপথেই দাড়াতে পারেননি অন্য মতাদর্শের রাজনীতিবিদরা। প্রকাশ্যে পালন হয়নি কোন কর্মসূচি। জুলাই বিপ্লবের পর আমুল বদলে গেছে সেই চিত্র। এখন অবাধ রাজনৈতীক পরিবেশ ফিরে পাওয়ায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী সহ স্বতন্ত্র প্রার্থীও। বিএনপি, জামায়াত ছাড়াও্ অন্যান্য রাজনৈতীক দলের বাইরেও আলোচনা রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এম,আনিসুল ইসলাম ভুলু। গোপালগঞ্জ ০১ আসনে মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন তিনি। (মুকসুদপুর – আংশিক কাশিয়ানী) এলাকায় জনগনের আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু এখন তিনি।
স্বতন্ত্র প্রার্থী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এম,আনিসুল ইসলাম ভুলু (মুকসুদপুর – আংশিক কাশিয়ানী) এ এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার লক্ষ্যেই তিনি নিয়মিত ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
মুকসুদপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ঝুঁটিগ্রামে এম,আনিসুল ইসলাম ভুলুর জন্ম।তার প্রপিতা মহ মতিউল্লাহ মিয়া ছিলেন ১৮৯৭ সালে কলকাতা হাইকোর্টের একজন সম্মানিত আইনজীবী। এ ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক পরিবেশ তাকে শৈশব থেকেই নেতৃত্ব ও সেবার প্রতি অনুপ্রাণিত করেন। এম.আনিসুল ইসলাম ১৯৮১ সালে ঢাকা কলেজ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনে ছাত্র রাজনীতিতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তিনি এই সময়ে আদর্শিক নেতৃত্বের মাধ্যমে নিজের পরিচিতি গড়ে তোলেন।
পেশাগত জীবনে শিক্ষাজীবন শেষে তিনি পেশা- জীবন শুরু করেন গার্মেন্টস শিল্পের মধ্য দিয়ে। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে তিনি প্যাকেজিং শিল্পে ব্যবসা শুরু করেন এবং নিজেকে একজন প্রথিতযশা উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান বেওভারসিজ ট্রেড কনসোর্টিয়াম লিমিটেড এবং বেইন্টারন্যাশনাল আন্তর্জাতিক মানের ব্যবসা পরিচালনা করে। তার নেতৃত্বে কোম্পানি একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছে। তার ব্যবসায়িক সাফল্যের মূলমন্ত্র হলো কঠোর পরিশ্রম,দূরদর্শী পরিকল্পনা এবং গ্রাহক সন্তুষ্টির প্রতি তার অঙ্গীকার। বেওভারসিজ ট্রেড কনসোর্টিয়াম লিমিটেড এবং বেইন্টার ন্যাশনাল তার প্রতিষ্ঠিত দুটি প্রতিষ্ঠান,যা আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেজিং এবং বাণিজ্য খাতে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছে। তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন বিদেশি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি থেকে ব্যবসায়িক পুরস্কার লাভ করেছে। তিনি বিশ্বাস করেন,ব্যবসা শুধুমাত্র মুনাফার জন্য নয়,সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।পরিবারিক জীবনে এম.আনিসুল ইসলাম ভুলু মিয়া পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান। পারিবারিক ভাবে তাঁরা ছয় ভাই-বোন। তার পিতা মরহুম নজিবর রহমান তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পুলিশ বিভাগে কর্মরত থেকেই কর্মজীবন শেষ করেন। তার জ্যেষ্ঠ ভাই এম. আমিনুল ইসলাম একজন সিএসপি কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ভুটান,লিবিয়া এবং কানাডায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সুদীর্ঘ উল্লেখযোগ্য কর্মজীবনের মধ্যে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। গোপালগঞ্জ জেলাসহ মুকসুদপুর উপজেলা পর্যায়ে সাধারণ জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায়
রাখেন এম. আনিসুল ইসলাম। তার নেতৃত্ব শুধু তার পেশাগত জীবনে নয়, সমাজেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
Leave a Reply