গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি :
ভেতরে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধের গেটে দাঁড়িয়ে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করেছেন গোপালগঞ্জ-৩ সংসদীয় আসন (টুঙ্গিপাড়া–কোটালীপাড়া) থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান হাবিব।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের ৩ নম্বর গেটে এ ঘটনা ঘটে। সেখান থেকেই তিনি তার নির্বাচনী প্রতীক ফুটবল মার্কা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন।
এ্যাড. হাবিবুর রহমান গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। প্রার্থীতা প্রত্যাহার না করায় বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহল কবির রিজভীর নামে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ্যাড. হাবিবুর রহমান হাবিবকে বহিস্কার করা হয়।
শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারতের পর স্বতন্ত্র প্রার্থী এ্যাড. হাবিবুর রহমান হাবিব টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বর ও পাটগাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচারণা চালান। এ সময় তিনি সাধারণ মানুষের কাছে ভোট ও সমর্থন চান এবং নিজের রাজনৈতিক লক্ষ্য ও অঙ্গীকার তুলে ধরেন।
এর আগে তিনি গওহরডাঙ্গা খাদেমুল ইসলাম মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রখ্যাত আলেম আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরীর কবর জিয়ারত করেন।
এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এ্যাড. হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, গোপালগঞ্জ-৩ সংসদীয় আসন (টুঙ্গিপাড়া–কোটালীপাড়া) বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আসন। এই আসনের মাটিতেই শায়িত আছেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং আলেম সমাজের উজ্জ্বল নক্ষত্র আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী। এই দুই মহামানবের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখেই আমি আমার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছি।
তিনি আরও বলেন, “উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের ভেতরে প্রবেশ করে কবর জিয়ারত করতে পারিনি। তাই বাধ্য হয়ে গেটের বাইরে দাঁড়িয়েই বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করেছি।”
নিজের রাজনৈতিক অতীত প্রসঙ্গে এ্যাড. হাবিব বলেন, এক সময় আমি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। টুঙ্গিপাড়া ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি এবং জেলা বিএনপির সদস্যও ছিলাম। তবে আমি অনেক আগেই বিএনপির রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছি। ডাক বিভাগের মাধ্যমে বিএনপির মহাসচিব বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি। ফলে আমাকে এখন বহিষ্কার করার বিষয়টি সম্পূর্ণ হাস্যকর, কারণ আমি দলে নেই।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ার মানুষ মামলা ও গ্রেপ্তারের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। হয়রানির শিকার হয়ে অনেকেই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। যারা রাজনীতি করেন, তাদের অনেকেই সাধারণ মানুষের কথা ভাবেন না; কেবল নিজের স্বার্থেই নির্বাচনে অংশ নেন।
তিনি আরও বলেন, আমি এলাকার মানুষের জন্য রাজনীতি করতে চাই, তাদের কল্যাণের জন্য কাজ করতে চাই। সকল অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য।
Leave a Reply